পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি – মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – (এমবিআরএম)’এর কর্মপরিকল্পনা

 আমরা এখন কি করছি এবং কি করতে চাই”

মোঃ শাহীন

 [নোটঃ লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন কর্তৃক প্রকাশিত পার্টির মতাদর্শগত তাত্ত্বিক মুখপত্র লালঝাণ্ডার তৃতীয় প্রকাশ, সংখ্যা, আগস্ট ২০০০ সংখ্যায় এবং পাঠ্যসূচি২ এ। – সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি।]

আমরা এখন বিপ্লবী শ্রেণী সংগ্রামের উচ্চতম রূপ বিপ্লবীযুদ্ধের অনুশীলন করছি। যার অর্থ হচ্ছে আমরা এখন সর্বহারা সহিংস বিপ্লবে নিয়োজিত রয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের লাইন হচ্ছে শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার লাইন। এর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা পূর্ববাংলার নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।

আমাদের লাইন ও তার অনুশীলন অর্থাৎ সংগ্রাম, দুটো পরস্পর বিপরীত দিকের একত্ব দ্বারা গঠিত।

এর একটি দিক হচ্ছে, শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে পার্টির মধ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার জন্য, এবং এই রাজনীতিকে দেশব্যাপী সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে বাস্তবায়নের নেতৃত্ব প্রদানে পার্টিকে সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের পার্টিসংগঠনের মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা ও বিকশিত করার লাইন ও সংগ্রাম।

এর আরেকটি দিক হচ্ছে, শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে দেশব্যাপী পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার জন্য পার্টির নেতৃত্বে সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে প্রচেষ্টা চালানোর লাইন ও সংগ্রাম। যার অর্থ হচ্ছে প্রধানত বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের সংগঠন তথা বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করার লাইন ও অনুশীলন।

আমাদের লাইন ও অনুশীলনের বৈপরীত্যের একত্বের মধ্যে এখন প্রধান দিক হচ্ছে পার্টিসংগঠনের মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা ও বিকশিত করা। এবং অপ্রধান দিক হচ্ছে দেশব্যাপী পার্টির নেতৃত্বে সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করা।

আমাদের লাইন ও অনুশীলনের বিকাশের প্রক্রিয়াতে পরবর্তীকালে আজকের প্রধান দিকটি পরিবর্তিত হবে অপ্রধান দিকে এবং আজকের অপ্রধান দিকটি পরিবর্তিত হবে প্রধান দিকে।

পার্টিসংগঠনের মধ্যকার মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতির তথা সর্বহারা সহিংস বিপ্লবের মতাদর্শগত তত্ত্বগত হাতিয়ার মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদ দ্বারা এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদারের সঠিক ও মহান শিক্ষাসমূহ দ্বারা আমাদের পার্টিসংগঠনের পুনঃসজ্জিতকরণ ও তাকে বিকশিত করতে চাই। এবং একইসাথে দেশব্যাপী সংকুচিত হয়ে আসা পার্টিসংগঠনের বলশেভিকীকরণও করতে চাই।

এবং তার মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টিকে পূর্ববাংলার বিপ্লবীযুদ্ধের নেতৃত্বকারী পার্টি হিসেবে পুনর্গঠিত ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যার জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন হচ্ছে আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত যুদ্ধপূর্ব সশস্ত্র সংগ্রামের নামে বিপ্লবীযুদ্ধকে বর্জনের মধ্য দিয়ে বিপ্লবকে বর্জনের ডান সুবিধাবাদীসংশোধনবাদীদলত্যাগী লাইন বিরোধী, এবং এই প্রশ্নে কমরেড খ ও গর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থীসুবিধাবাদীঅর্থনীতিবাদীসংস্কারবাদী লাইন বিরোধী, এবং বিরাজমান বিভিন্ন ভ্রুণকেন্দ্রের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আনাড়িপনা ও শিশুসুলভ বিশৃঙ্খলা বিরোধী, এবং জন্মসূত্রে আসা ও আমাদের মাঝে এখনো বিরাজমান এসব ভুল লাইনের বিভিন্ন খারাপ উপাদানগুলোকে সংশোধনের জন্য পরিচালিত আমাদের নেতৃত্বাধীন দুই লাইনের সংগ্রামকে অব্যাহত রাখা, বিকশিত করা ও তুঙ্গে উঠানো।

এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে দুই লাইনের সংগ্রামকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরা। এর অর্থ হচ্ছে পার্টির নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে শ্রেণীসংগ্রামকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরা।

এ কাজকে যত বেশি করে ও যত ভালোভাবে আমরা আঁকড়ে ধরতে পারব তত বেশি করে ও তত ভালোভাবে আমরা পার্টির নেতৃত্বে পার্টির বাইরের শ্রেণীসংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারব।

দুই লাইনের সংগ্রাম পার্টি ও বিপ্লবের ক্ষতি করেআনোয়ার কবীরের এই সংশোধনবাদী শিক্ষাকে আমাদের পরিপূর্ণভাবে ভুলে যেতে হবে, তার বিভিন্ন রূপের অবশেষ সমূহকে আমাদের মধ্য থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। এবং দুই লাইনের সংগ্রাম পার্টি ও বিপ্লবের উপকার করে পার্টি ও বিপ্লবকে রক্ষা ও বিকশিত করেকমরেড “ক” প্রদর্শিত এই মাওবাদী শিক্ষাকে আমাদের দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।

আমাদেরকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে যে, দুই লাইনের সংগ্রামকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরার অর্থ হচ্ছে বিপ্লবকেই আঁকড়ে ধরা। এবং বিপরীতভাবে, বিপ্লবকে আঁকড়ে ধরার অর্থ হচ্ছে দুই লাইনের সংগ্রামকেই চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরা ।

দুই লাইনের সংগ্রামকে অবদমিত করা, সংকুচিত, সীমাবদ্ধ ও গণ্ডিবদ্ধ করার আনোয়ার কবীরপন্থী সংশোধনবাদী কর্মনীতি এবং “খগ”র নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থীসুবিধাবাদী কর্মনীতিকে বিরোধিতা ও প্রত্যাখান করার আমাদের অবস্থানকে অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। এবং বিপরীতে জনগণ থেকে আসা এবং জনগণের মধ্যে যাওয়ার মাওবাদী কর্মনীতিকে পূর্বের মতই দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকতে হবে।

দুই লাইনের সংগ্রামকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরা ও তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং সেক্ষেত্রে জনগণ থেকে আসা ও জনগণের মধ্যে যাওয়ার কর্মনীতিকে অনুশীলনের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে একটি উপযুক্ত মাধ্যম বা হাতিযার। পার্টির মতাদর্শগত তত্ত্বগত কেন্দ্রীয় মুখপত্র “লালঝাণ্ডা”ই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম বা হাতিয়ার, যার প্রকাশনাকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে ও তার প্রস্তাবনার ভিত্তিতে। যা ভুল ছিল। তাই তার সংশোধন করা প্রয়োজন। যার অর্থ হচ্ছে লালঝাণ্ডা পুনঃপ্রকাশনার সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। যা ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে। এবং এই নিবন্ধ প্রকাশের মধ্য দিয়েই তার পুনঃযাত্রা শুরু হলো। এরপর থেকে আমাদের নেতৃত্বে দুই লাইনের সংগ্রাম প্রধানভাবে আবর্তিত ও কেন্দ্রীভূত হবে লালঝাণ্ডাকে ঘিরেই।

তাই আমাদের দিক থেকে এখন দুই লাইনের সংগ্রামকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরা এবং তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের অর্থ হচ্ছে প্রধানত লালঝাণ্ডার পুনঃপ্রকাশনাকে অব্যাহত রাখা ও তাকে নিয়মিতকরণের সংগ্রামকে আঁকড়ে ধরা। কেননা, প্রধানত তার মধ্য দিয়েই আমরা পার্টির মধ্যকার মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ও বিজয়ী করতে পারব।

পার্টির নেতৃত্বে দেশব্যাপী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে তথা সর্বহারা সহিংস বিপ্লবের রাজনীতিকে সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার অর্থ হচ্ছে দেশব্যাপী পার্টির নেতৃত্বে প্রধানত বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করা। এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে সাধারণ আহ্বান, তার ভিত্তিতে রণনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিন্দু ভেঙ্গে প্রবেশ করা এবং একটি স্ফুলিঙ্গ দাবানল সৃষ্টি করতে পারেএই কর্মনীতিকে আঁকড়ে ধরা।

এ সব ক্ষেত্রে যে সকল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সে সবকে অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে। যার অর্থ হচ্ছে, পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতি তথা সর্বহারা সহিংস বিপ্লবের পক্ষে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ও বারংবার রাজনৈতিক প্রচার অভিযান চালানো এবং এর মধ্য দিয়ে অর্জিত জনসমর্থনকে বিভিন্ন উপায়ে রাজনৈতিকসাংগঠনিকভাবে সংগঠিত করা। এবং তাদের মধ্যকার সবচেয়ে অগ্রসরদের নিয়ে পরিকল্পিত নির্দিষ্ট রিজিওন ভিত্তিক বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের সংগঠনকে পুনরায় গড়ে তোলা ও বিকশিত করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালানো।

সাধারণভাবে বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতির অনুশীলন তথা বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের বাহিনী গড়ে তোলা ও বিকাশের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় প্রধানত স্বল্প সংখ্যক অগ্রসর ব্যক্তিদের নিয়েই। বিপ্লবী কর্মসূচির কারণে তা কঠোর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা ও ছোটবড় উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধিতভাবে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমজীবী জনগণের সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট এবং অংশগ্রহণ সমৃদ্ধ গণযুদ্ধে পরিণত হয়। এ হচ্ছে অনুপস্থিতি থেকে উপস্থিতি এবং ছোট থেকে বড়তে বিকশিত হবার বস্তু জগতের সাধারণ নিয়মেরই প্রতিফলন মাত্র।

তাই যে সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের পার্টি আজকের যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে আমাদের নেতৃত্বে আজকে বিপ্লবীযুদ্ধের বাস্তব অনুশীলন পুনরায় শুরু হবে স্বল্প সংখ্যক অগ্রসর ব্যক্তিদের নিয়েই। এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই হচ্ছে আজকের বাস্তবতা। এতে চিন্তিত হবার কিছু নেই এবং এতে ঘাবড়ে যাবারও কিছু নেই। আমাদের বিপ্লবী কর্মসূচি এবং তার পক্ষে আমাদের বিপ্লবী সংগ্রামই আগামীতে আমাদের পক্ষে কৃষকসহ বিপুল সংখ্যক জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে আসবে। এবং ছোটবড় উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে তা কোটি কোটি লোকের সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট এবং অংশগ্রহণ সমৃদ্ধ গণযুদ্ধে পরিণত হবে।

আমাদের লাইন অনুযায়ী আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের নেতৃত্বকারী হবে সর্বহারাশ্রেণী, প্রধান উপাদান হবে কৃষকশ্রেণী, গ্রাম হবে ভিত্তি এবং যুদ্ধটা হবে দীর্ঘস্থায়ী। এই যুদ্ধের অন্যান্য মিত্র হবে মধ্যবিত্ত ও জাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণী। যুদ্ধটা পরিচালিত হবে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, দেশীয় আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ এই চার পাহাড়কে উৎখাতের জন্য। তাদের স্বার্থরক্ষক সাম্রাজ্যবাদসম্প্রসারণবাদের দালাল দেশীয় আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রেণী, রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র ও তার প্রধান উপাদান রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য। শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিককৃষক বুনিয়াদী মৈত্রীর ভিত্তিতে শ্রমিককৃষকমধ্যবিত্তজাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণীর নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। যার লক্ষ্য হবে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম।

যার অর্থ হচ্ছে আমরা এখন আমাদের আশু কর্মসূচি অর্থাৎ নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধ করছি। যার মধ্য দিয়ে আমরা নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং তার মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই। এ কারণে আমাদের আজকের যুদ্ধ হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আমাদের মূল কর্মসূচি সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবং এ কারণে তা সর্বহারা বিশ্ববিপ্লবের অংশ।

তাই আমাদেরকে শুধুমাত্র নিজেদের দেশের বিপ্লবীযুদ্ধকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করলেই চলবে না, বরং একইসাথে বিশ্বের অন্যান্য বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী সংগ্রামগুলোর সাথেও একাত্ম থাকতে হবে, সে সবের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে এবং সম্ভবপর ক্ষেত্রে সম্ভবপর সক্রিয় সহযোগিতা করার চেষ্টা চালাতে হবে।

আমাদের দেশে বিপ্লবীযুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্ব্ব প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর হবে শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টির নেতৃত্বে ও তার মধ্য দিয়ে। আমাদের পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টিই হচ্ছে আমাদের দেশের শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টি। তাই আমাদের পার্টির মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন যত বেশি ও শক্তিশালী হবে, পার্টিসংগঠনের বিস্তার ও নেটওয়ার্ক যত ভালো হবে, এ দেশের বিপ্লবীযুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্ব তত বেশি করে ও তত ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর হতে পারবে। এবং তাতে বিপ্লবীযুদ্ধও আরো ভালোভাবে এগোতে ও বিজয়ী হতে পারবে।

তাই বিপ্লবীযুদ্ধকে বিকশিত ও বিজয়ী করার প্রথম চাবিকাঠি হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টিকে ক্রমবর্ধিতভাবে সুসংহত, শক্তিশালী ও সুবিস্তৃত করা। এবং পার্টিসংগঠনকে অনবরত সর্বহারা সহিংস বিপ্লবের মতাদর্শগত তত্ত্বগত হাতিয়ার মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদ দ্বারা সজ্জিত করা।

নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রধান উপাদান কৃষকশ্রেণী, যার অর্থ হচ্ছে কৃষক জনগণের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ ক্ষেতমজুর, গরিব কৃষক ও নিম্ন মাঝারী কৃষকদের উপর আমাদেরকে প্রধানভাবে নির্ভর করতে হবে। এবং প্রধানত তাদেরকে নিয়েই আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনী গড়ে তুলতে ও বিকশিত করতে হবে।

আমাদের দেশের বাস্তবতায় কৃষকশ্রেণী ছাড়াও গ্রামীণ অন্যান্য নিপীড়িত শ্রেণীগুলোর জনগোষ্ঠীরও সুবিশাল বিপ্লবী সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ কারণে তাদের উপরও আমাদের সবিশেষ মনোযোগ আরোপ করতে হবে। বিশেষত জেলে (মৎসজীবী), তাঁতি, কামার, কুমার, নরসুন্দর এবং গ্রামীণ গরিব ব্যবসায়ীদোকানদারদেরকে গুরুত্ব সহকারে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করতে হবে।

নারীরা বিশেষত গ্রামীণ নারীরা হচ্ছে পূর্ববাংলার সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী এবং তারাই হচ্ছে পূর্ববাংলার বিপ্লবের সবচেয়ে বড় মজবুত শক্তি। তাদেরকে সচেতন, সংগঠিত ও সক্রিয় করতে না পারলে পূর্ববাংলার বিপ্লব বিজয়ী হতে পারবে না। তাই নারীদের মধ্যে বিশেষত গ্রামীণ নারীদের মধ্যে সংগঠনসংগ্রাম গড়ে তুলবার জন্য আমাদেরকে বিশেষভাবে সচেষ্ট হতে হবে।

নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচির সারার্থ হচ্ছে জাতীয় পুঁজির বিকাশের পথকে বাধামুক্ত করা। এক্ষেত্রে বাধা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ। তাই উৎপাদনের উপায় ও উৎপাদনের উপকরণের উপর এদের নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব ও মালিকানাকে উচ্ছেদ করে উৎপাদকদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও নয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া সম্ভব নয়।

এ কারণে আমাদের নেতৃত্বে বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে গড়ে তোলা ও বিকাশের ক্ষেত্রে কর্মসূচিগত আমাদের মূল ধ্বনি হবে উৎপাদনের উপায় ও উৎপাদনের উপকরণের উপর উৎপাদকদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও নয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ধ্বনি। যা শ্রমিক কৃষকসহ ব্যাপক শ্রমজীবী জনগণকে আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করে তুলবে।

একথা আমাদেরকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে যে, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও নয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার কর্মসূচিতে জনগণকে সজ্জিত ও সক্রিয় না করাটা হচ্ছে অর্থনীতিবাদ। এবং বিপ্লবীযুদ্ধ ছাড়া যেহেতু রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও নয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় সেহেতু বিপ্লবীযুদ্ধের কর্মসূচিতে জনগণকে সজ্জিত ও সক্রিয় না করাটা হচ্ছে সুবিধাবাদ।

আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের অনুশীলন বড় ধরনের তিনটি রণনৈতিক স্তরের মধ্য দিয়ে এগোবে ও বিজয়ী হবে। এর প্রথমটি হচ্ছে রণনৈতিক আত্মরক্ষার স্তর। দ্বিতীয়টি হচ্ছে রণনৈতিক ভারসাম্যের স্তর। এবং তৃতীয়টি হচ্ছে রণনৈতিক আক্রমণের স্তর।

আমরা এখন রয়েছি রণনৈতিক আত্মরক্ষার স্তরে। প্রবল শক্তির বিপক্ষে খুব ছোট শক্তি নিয়ে আমাদেরকে শুরু করতে হয়েছে বলে এই রণনৈতিক আত্মরক্ষার স্তরটি হবে খুবই দীর্ঘ, দুরূহ, নির্মম ও রক্তক্ষয়ী। এই স্তরে আমাদেরকে অনুসরণ করতে হবে বড় শক্তির বিরুদ্ধে ছোট শক্তির টিকে থাকা ও বিকাশের গেরিলাযুদ্ধের নীতি ও পদ্ধতিকে।

আমাদের দেশটি হচ্ছে ছোট ও প্রধানত সমতল। আমাদের জনগণ হচ্ছেন এখনো প্রধানত অসংগঠিত এবং সেহেতু দুর্বল। আমাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা নেই। আমাদের হাতে নিয়মিত বাহিনী নেই। আমাদের নেই যুদ্ধের প্রয়োজনীয় উপকরণও। আমাদের সামর্থ্য খুবই দুর্বল। পক্ষান্তরে শত্রুশ্রেণী সংগঠিত ও সতর্ক। তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা রয়েছে। তাদের রয়েছে আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ও ট্রেনিংপ্রাপ্ত বিরাট বাহিনী। তাদের রয়েছে প্রচুর যুদ্ধ উপকরণ। তাদের সামর্থ্য খুবই সবল। এ সবের ভিত্তিতে আমাদের ও শত্রুর মধ্যে শক্তিসামর্থ্যের যে বাস্তব পার্থক্যের সীমারেখা আরোপিত হয় সেটাই নির্ধারণ করে দেয় যে, আমাদের পক্ষে শত্রুশক্তির প্রায় সমকক্ষতা অর্জন তথা রণনৈতিক ভারসাম্যের স্তরে পৌঁছানোটা হবে একটি দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী দুরূহ প্রক্রিয়ার বিষয়। যার পুরো সময়কালটাই হবে রণনৈতিক আত্মরক্ষার স্তর এবং তার প্রায় পুরো সময়কাল জুড়েই অনু্সরণ করতে হবে প্রধানত গেরিলাযুদ্ধের নীতিপদ্ধতিকে। এ সময়ে সবকিছুই গড়ে উঠবে ও বিকশিত হবে প্রধানত গেরিলাযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ও তাকে আবর্তিত করেই। এ সময়ে আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতির অর্থ হচ্ছে গেরিলাযুদ্ধের রাজনীতি। এবং এ সময়ে আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রামিকসাংগঠনিক নীতির অর্থ হচ্ছে গেরিলাযুদ্ধের সংগ্রামিকসাংগঠনিক নীতি।

তাই শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে দেশব্যাপী সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার আজকের অর্থ হচ্ছে, নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচির ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে গ্রামাঞ্চলে প্রধানত কৃষক ও অন্যান্য নিপীড়িত গ্রামীণ জনগণকে নিয়ে গেরিলাযুদ্ধের সংগ্রাম ও গেরিলাযুদ্ধের বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করা।

আমাদের দেশের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর ভিত্তিতে আমাদের গেরিলাযুদ্ধের সংগ্রাম ও গেরিলাযুদ্ধের সংগঠন গড়ে উঠবে, টিকে থাকবে ও বিকশিত হবে।

সেজন্য বিপ্লবীযুদ্ধের পক্ষে ইতিবাচক ও সহায়ক বৈশিষ্ট্যগুলোকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে এবং সে সবের উপর আমাদের নির্ভর করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে অব্যাহতভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণা করতে হবে এবং জনগণের সৃজনশীল শক্তির উপর ভিত্তি গাড়তে হবে।

জনগণ বিপ্লবীযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়, একথা সঠিক নয়। জনগণ প্রস্তুত নয়এ কথার আসল অর্থ হচ্ছে নেতৃত্ব প্রস্তুত নয়। জনগণ সর্বদাই বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত।

আমাদের দেশের জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার মান খুবই উন্নত। এবং আমাদের দেশের জনগণের রয়েছে কয়েকশ বছরের নিরস্ত্র ও সশস্ত্র সংগ্রামের বিপুল সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। জনগণ সর্বদাই শাসকশ্রেণী, রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকেন, আহ্বান বা ইস্যু পেলেই মরিয়া সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং সংগ্রাম কতবার ব্যর্থ হলো তার তোয়াক্কা না করেই পুনরায় সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকেন। যা বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে শত্রু পক্ষের কঠোরনির্মম দমনাভিযানের মধ্যেও টিকে থাকতে ও বিকশিত হতে অনুকূল ভিত্তি যোগায়।

আমাদের দেশে শ্রেণীসংগ্রামের তীব্রতা খুবই বেশি, ছোটবড় ঘটনায় তা বারবার প্রকাশিত হয় এবং জনগণের বিদ্রোহ আকারে ফেটে পড়ে। বিরাজমান শ্রেণীসংগ্রামের এই তীব্রতা, গভীরতা ও পরিপক্কতাই বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতির পক্ষে সবচেয়ে বেশি অনুকূল ভিত্তির সৃষ্টি করে।

আমাদের দেশের বিশাল জনসংখ্যা এবং ঘনবসতি বিপ্লবীযুদ্ধকে টিকিয়ে রাখা ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে রক্ষাকবচের কাজ করে। যা বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে গণবিচ্ছিন্ন করে ধ্বংস করার শত্রুবাহিনীর অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। এবং গণ অরণ্যের মধ্যেই লুকিয়ে রেখে বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে টিকে থাকতে ও বিকশিত হতে সহায়তা করে।

আমাদের দেশের কৃষক ও গ্রামীণ জনগণের অতিমাত্রায় বৃহৎ জনসংখ্যা বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীর বিশাল মজুতের সৃষ্টি করে, যাকে পরিপূর্ণ রূপে ধ্বংস করা পৃথিবীর কোনো শক্তির পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। যা বিপ্লবীযুদ্ধের টিকে থাকা, বিকশিত হতে পারা ও বিজয়ী হওয়ার নিশ্চিত গ্যারান্টি দেয়।

আমাদের দেশের শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকশ্রেণীর বেশিরভাগ সদস্যই কৃষক পরিবার থেকে উদ্ভূত এবং কৃষক জনগণের সাথে রয়েছে তাদের নাড়ির যোগ। যা শ্রমিককৃষক মৈত্রী, গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লবী সংগ্রামকে ছড়িয়ে দেয়া এবং সর্বত্র শত্রুপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত, দুর্বল ও পরাজিত করার ও বিপ্লবীযুদ্ধকে বিজয়ী করার বাস্তব ভিত্তি যোগায়।

আমাদের দেশটি ছোট, ঘনবসতি, জনসংখ্যার প্রধান অংশের প্রায় একই ভাষা, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল সংস্কৃতিগতভাবে প্রায় সমবিকশিত, অর্থনৈতিকবাণিজ্যিকপারিবারিক বন্ধন প্রভৃতি কারণে বিভিন্ন জেলার লোকদের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়েজড়িয়ে থাকা, জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার উন্নতমান, সমগ্র দেশের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতি বহুবিধ কারণে আমাদের দেশের বিপ্লবীযুদ্ধের যে কোনো স্ফুলিঙ্গ শত্রুপক্ষের হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, এবং তা দেশব্যাপী অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টির ভিত্তি যোগায়। ফলে গ্রামাঞ্চলে বিপ্লবীযুদ্ধের বিকাশের প্রক্রিয়ায় এই ভিত্তিগত অনুকূলতাকে বারবার কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষকে অধিক থেকে অধিকতর দুর্বল এবং নিজেদেরকে অধিক থেকে অধিকতর সবল করা যায়। এবং তা রণনৈতিক আক্রমণের স্তরে আমাদের কর্তৃক দেশব্যাপী ক্ষমতাদখলকে সহজতর ও দ্রুততর করবে।

আমাদের দেশের নদীমাতৃকতা বিপ্লবীযুদ্ধকে গড়ে তোলা, টিকে থাকা ও বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে। এই নদীমাতৃকতার প্রতিকূলতার মুখেই আলেকজান্ডারের বিশ্ববিজয় অভিযান ভারতবর্ষের দক্ষিণ অংশে এসে থেমে গিয়েছিল। নদীমাতৃকতার অনুকূলতাকে কাজে লাগিয়েই বিশাল ও শক্তিশালী মোঘল শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার বারো ভুঁইয়াদের দুর্বল শক্তি লড়াই করে টিকেছিল এবং নিজেদের সুবিধাজনক শর্তে মোঘলদেরকে চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে সক্ষম হয়েছিল। নদীমাতৃকতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৃটিশ উপনিবেশিক শক্তির বিপক্ষে তিতুমীরের নেতৃত্বাধীন সংগ্রামসহ অসংখ্য সশস্ত্র কৃষক সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল ও বিরাট শত্রু শক্তির বিপরীতে টিকেছিল ও বিকশিত হয়েছিল। পাকিস্তানি উন্নত আধুনিক বাহিনীও ’৭১ সালে এই নদীমাতৃকতার সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল। এবং ’৭১ ও ’৭৩ -’৭৪ সালে শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বেও আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধ গড়ে উঠেছিল, টিকেছিল ও বিকশিত হয়েছিল প্রধানত এই নদীমাতৃকতার অনুকূলতাকে কাজে লাগিয়ে। আমাদের বর্তমান কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাতেও এই নদীমাতৃকতার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে ও থাকবে। তাই নদীমাতৃকতার বিবিধ অনুকূলতাকে কাজে লাগানোর বিবিধ সামর্থ্য অর্জনের জন্য স্থানীয় শাখাগুলোকেও বিশেষভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

আমাদের দেশের নিচু ও সমতল ভূ্মিও বিপ্লবীযুদ্ধের জন্য খুবই অনুকূল। বিপ্লবীযুদ্ধের কিছু বিকাশ হলেই বিশেষত চলমান যুদ্ধের স্তরে এই নিচু ও সমতল ভূমি আমাদের জন্য অনুকূল এবং ভারী যানবাহন ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নির্ভর শত্রু বাহিনীর জন্য প্রতিকূল হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের দেশের বর্তমান আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ (পরিবহন) ব্যবস্থাও বিপ্লবীযুদ্ধের জন্য খুবই অনুকূল। কেননা, এর উপর নির্ভর করেই শত্রু বাহিনীর রণনীতি, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাদি গড়ে উঠেছে। অথচ এই যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষেরই সৃষ্টি, ফলে মানুষের পক্ষেই একে অকেজো করে দেয়া সম্ভব। ’৭১ সালে উন্নত পাকবাহিনীর খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়াটা এ ক্ষেত্রে এক চমৎকার শিক্ষা।

তাই বিপ্লবীযুদ্ধের বিকাশের প্রক্রিয়াতে সারা দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেবার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে পাহাড়জঙ্গলের মত দুর্গম জায়গা কম কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা গ্রাম অঞ্চলগুলোকেই দুর্গম এলাকাতে পরিণত করতে পারব। এবং শহরাঞ্চলে খাদ্য ও রবিশস্য প্রেরণকে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে স্থগিত করে দিয়ে শত্রুপক্ষের শক্ত নিয়ন্ত্রণাধীন শহরগুলোর উপর প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারব।

আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করছি না। জনগণের শত শত বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হয়েছে ’৭১ সালের আধুনিক পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিকট অভিজ্ঞতা এবং পার্টির নেতৃত্বে ’৭১, ’৭৩-’৭৪ এবং ’৮৮-’৮৯এর বিপ্লবীযুদ্ধের অভিজ্ঞতা। জনগণ এবং তাদের নেতৃত্বকারী পার্টির এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং দেশব্যাপী পার্টির পরিচিতি ও প্রভাব আমাদেরকে বিপুল সামর্থ্যগত ভিত্তি যোগায়। যা বিপ্লবীযুদ্ধের পুনঃসূচনাকে দেশব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া ও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবার অনুকূলতা সৃষ্টি করে।

শাসকশ্রেণী, রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে পরস্পর বিরোধী দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব খুবই গভীর, তীব্র ও সমাধানের প্রায় অযোগ্য পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। যার রয়েছে সুবিশাল ঐতিহাসিক পটভূমি। যা তাদের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও দুর্বলতাকেই প্রকাশ ও প্রমাণ করে এবং তা বিপ্লবীযুদ্ধের টিকে থাকা ও বিকাশের ক্ষেত্রে বাড়তি অনুকূলতা সৃষ্টি করে।

আমাদের দেশের জাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণীর অবস্থান খু্বই দুর্বল। তাদের পক্ষে স্বাধীনভাবে বড় ধরনের কোনো টেকসই সংগ্রাম গড়ে তোলা ও তার পক্ষে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয়। ক্ষুদে বুর্জোয়াশ্রেণীও রাজনৈতিকভাবে খণ্ডবিখণ্ড এবং তাদের দলউপদলগুলোও নির্জীব, দুর্বল, জনগণের আস্থাহীন। অর্থনীতিবাদীসংস্কারবাদীসংশোধনবাদীরা জনগণের কাছে পরিত্যক্ত ও গণবিচ্ছিন্ন। এদের কেউ কেউ গণনির্যাতকের পর্যায়ে অধঃপতিত। ফলে শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টি হিসেবে একমাত্র আমাদের পক্ষেই জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়া ও বিকাশের চমৎকার অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। এবং তা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

এজন্য এখন আমাদের দরকার হচ্ছে তিন বছরের প্রথম রণনৈতিক পরিকল্পনার যথাসম্ভব সফল বাস্তবায়ন।

বিবিধ কারণে এখন আমাদের প্রধানত শহর থেকে শুরু করতে হয়েছে। আমাদেরকে প্রথমে গ্রামে পা রাখার জায়গা তৈরি করতে হবে। এজন্য পরিকল্পিত রিজিওনের বিভিন্ন অংশ থেকে আমাদেরকে গ্রামে ঢুকে পড়া ও স্থায়ী হবার চেষ্টা করতে হবে।

পরিকল্পিত রিজিওনটি কয়েকটি জেলার সমন্বয়ে গঠিত। নিকটবর্তী জেলাগুলোও পর্যায়ক্রমে এই রিজিওনের অন্তর্ভুক্ত হবে। রিজিওন থেকে দূরবর্তী শাখাগুলো পৃথক পরিকল্পনার অধীনে কাজ করবে, যা রিজিওন ভিত্তিক মূল ও প্রধান পরিকল্পনার অধীন, অংশ ও সহায়ক হবে।

আমাদের সকল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিকে বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে এবং তাদের সময় ও শ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিকল্পিত রিজিওনের কোনো না কোনো অংশে ব্যয় করতে হবে।

বর্তমান বাস্তবতাই এমন যে, গ্রামাঞ্চলে কাজ গড়ে তোলা, টিকে থাকা ও বিকশিত হবার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন। এবং আমাদের বিপ্লবীযুদ্ধের লাইনকে বাস্তবায়নের জন্যও অস্ত্রের প্রয়োজন।

অস্ত্র সংগৃহীত হবে প্রধানত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে; শত্রুর অস্ত্রই আমাদের অস্ত্রএই নীতির বাস্তবায়ন করে।

নিছক অস্ত্র দখল কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য হতে পারে না। বিপ্লবকে অবদমন করার জন্য শত্রুবাহিনীর রণনৈতিক পরিকল্পনা ভেঙ্গে দেয়ার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই আমাদেরকে অস্ত্র দখল করতে হবে এবং তা দিয়ে জনগণকে সজ্জিত করতে হবে।

বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী সংগ্রামের অতীতের পরাজয়গুলোকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে শত্রুপক্ষের একটি অন্যতম রণনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে 2:1 (টু স্টু ওয়ান)। অর্থাৎ দুটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন। যাতে গ্রামাঞ্চলে বিপ্লবীরা পুনরায় দানা বেঁধে উঠতে না পারে।

নিজেদের আত্মরক্ষা ও বিকাশের জন্য শত্রুপক্ষের এই রণনৈতিক পরিকল্পনা ভেঙে ফেলা বিপ্লবীদের দায়িত্ব ।

সারা দেশব্যাপী শত্রুপক্ষ এখনো এই রণনৈতিক পরিকল্পনাকে পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করতে পারেনি। কিন্তু যে সব এলাকায় বিপ্লবীরা অতীতে পরাজিত হয়েছিল সে সব এলাকার অনেক স্থানে এবং যে সব এলাকায় বিপ্লবীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়া শুরু করেছে সে সব স্থানের অনেক জায়গায় ইতোমধ্যেই ছোটবড় অনেক পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে যা ছিল বিপ্লবীদের এবং আমাদের এক সময়কার অন্তর্লাইন, তা এখন হয়ে পড়ছে আমাদের বহির্লাইন।

এ হচ্ছে প্রকৃত অর্থে শত্রুপক্ষের অন্তর্লাইনের সম্প্রসারণ তথা ঘেরাও দমন অভিযানের বলয়ের স্থায়ীকরণ ও সম্প্রসারণ এবং বিপরীতে আমাদের অন্তর্লাইনের সংকোচন। একে উল্টে দিতে হবে।

হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে শত্রুপক্ষের এ ধরনের ক্যাম্প আক্রমণ করতে হবে এবং অস্ত্র দখল করতে হবে।

এখন প্রথম দিকের আক্রমণ বা আক্রমণগুলোতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ আমাদের কম থাকবে, অন্ততঃ শত্রুপক্ষের তুলনায়। তাই অতর্কিত আক্রমণের পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সযত্নে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সাহসের উপর নির্ভর করতে হবে। শত্রুকে প্রস্তুত হবার সুযোগ না দিয়ে অতর্কিতে আক্রমণ করতে হবে। হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাই দিয়ে আক্রমণ করতে হবে। আক্রমণ সফল না হওয়া পর্যন্ত তরঙ্গমালার মত এগিয়ে যেতে হবে এবং বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে হবে।

অল্প কয়েকটি সফল আক্রমণের মধ্য দিয়েই আমাদের অস্ত্র ব্যবহারের সামর্থ্য ও ক্ষমতার নিশ্চিতভাবেই প্রভূত উন্নতি হবে।

একে কাজে লাগাতে হবে গ্রামে নিজেদের পা রাখার জমিন তৈরি ও তাকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে।

এটা হচ্ছে বহির্লাইনে আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা দিয়ে অন্তর্লাইনকে গড়ে তোলা ও বিকশিত করা।

এ হচ্ছে গেরিলাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেরিলা অঞ্চল গড়ে তোলা ও বিকশিত করা।

এই প্রক্রিয়াতে শত্রুপক্ষ তাদের ছোট ছোট ক্যাম্পগুলোকে ক্রমবর্ধিতভাবে গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হবে। আমরাও বিকাশের প্রক্রিয়াতে আরো বড় ক্যাম্প আক্রমণ করতে পারব। তখন শত্রুপক্ষও তুলনামূলক বড় ক্যাম্পগুলোকেও গুটাতে শুরু করতে বাধ্য হবে। আমরা ওদের অবশিষ্ট ক্যাম্পগুলোর যেখানেই প্রয়োজন ও সম্ভব সেখানেই হ্যারাসিং এ্যাটাক করব এবং বিবিধ ব্যবস্থা নিয়ে ক্যাম্পের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলব। যা অবশিষ্ট ক্যাম্পগুলোরও বেশ কিছুটাকে গুটিয়ে আনতে বাধ্য করবে শত্রুপক্ষকে। এবং এক পর্যায়ে আপেক্ষিক কেন্দ্রীভবন ছাড়া স্থানীয় থানাক্যাম্পের পুলিশদের পক্ষে আমাদের ও জনগণের উপর আক্রমণে আসাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। বরং উল্টো নিজেরাই নিজেদের থানাক্যাম্পগুলোতে অন্তরীণ হয়ে পড়বে।

এ সব আমাদের অন্তর্লাইনকে বাড়াতে সহায়তা করবে এবং শত্রুপক্ষের অন্তর্লাইনকে তথা ঘেরাও দমন অভিযানের বলয়ের স্থায়ীকরণ ও সম্প্রসারণকে সংকুচিত করে আনবে বা অন্তত তার মধ্যে বড় বড় ফাঁক সৃষ্টি হবে এবং দমন অভিযানের সময়কাল ও বলয়ের গণ্ডিও অস্থায়ী চরিত্রের হবে। যা আমাদের জন্য বিপুল সব সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে। যাকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের শক্তিসামর্থ্যকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারব এবং আরো বড় আক্রমণে যেতে পারব।

এভাবে তাদের অন্যতম রণনৈতিক পরিকল্পনা 2:1 কে ব্যর্থ করে দিতে হবে। যা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সমগ্র দেশের বিপ্লবী জনগণের বিপক্ষে শত্রুপক্ষের ঘেরাওদমন অভিযানেরই একটি রূপ ও রণনৈতিক পদক্ষেপকে ব্যর্থ করে দেয়া।

কিন্তু আমরা যুদ্ধের এই রূপকে বেশিদিন প্রধান আকারে চালাতে পারব না। কেননা, তা চালানো সম্ভব নয়। এবং তা চালানো উচিতও নয়।

আমাদেরকে অবশ্যই অন্তর্লাইনে যুদ্ধকে গড়ে তুলতে ও বিকশিত করতে হবে। বহির্লাইনে এখনকার যুদ্ধের প্রধান রূপ হবে যেমন কমান্ডো আক্রমণ, তেমনি অন্তর্লাইনে যুদ্ধের রূপ হবে প্রধানত এ্যামবুশ আক্রমণ।

যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমাদের বাহিনী গড়ে উঠবে; তা অনিয়মিত থেকে নিয়মিত হবে। এবং ছোট থেকে বড়তে বিকশিত হবে। যুদ্ধের মধ্য দিয়েই যেমন বাহিনী গড়ে উঠবে, তেমনি বাহিনী গড়ে উঠার মধ্য দিয়ে যুদ্ধও বিকশিত হবে, উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হবে।

নিয়মিত গেরিলা বাহিনী ছাড়া যুদ্ধকে চলমান যুদ্ধের পর্যায়ে উল্লম্ফন ঘটানো সম্ভব নয়; সম্ভব নয় শক্তিশালী গেরিলা অঞ্চল গড়ে তোলা এবং ঘাঁটি এলাকার দিকে এগিয়ে যাওয়া।

আমাদেরকে প্রথমে পাশাপাশি বেশকিছু গেরিলা অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে; সেগুলোর মধ্যে ঘাঁটি অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের সকল পরিকল্পনা ও কার্যক্রমকেই ঘাঁটি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ও তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে হবে।

তবে একথা মনে রাখতে হবে যে, স্থায়ী ঘাঁটি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি স্থায়ী তথা নিয়মিত বাহিনী গড়ে উঠার প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং তা বিভিন্ন পালাবদলের প্রক্রিয়াতেই কেবলমাত্র সম্ভবপর হতে পারে।

সে লক্ষ্যেই আমাদের যাত্রা শুরু। তার জন্য প্রয়োজন বিন্দু ভেঙ্গে প্রবেশ করা এবং এক বা একাধিক স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি করা।

আসুন আমরা তাই করি। আমাদের নেতৃত্বে বিপ্লবীযুদ্ধের বিকাশ পার্টির মধ্য থেকে উদ্ভূত দুই লাইনের সংগ্রামে আমাদের প্রতিপক্ষ সংশোধনবাদী ও মধ্যপন্থীদেরকে রাজনৈতিকভাবে কবরস্থ করবে। এবং পূর্ববাংলার সর্বহারা বিপ্লবকে বিজয়ী করে তুলবে।

হ্যাঁ, আমরা তাই চাই। এবং তা করারই চেষ্টা করছি।

 

(মানব রহমান)

সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – (এমবিআরএম)

ডিসেম্বর ৩য় সপ্তাহ, ২০১১।

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: