সংখ্যালঘু বৌদ্ধসম্প্রদায়ের উপর বর্বরোচিত হামলা সম্পর্কে

[নোটঃ গত ২৯ ও ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১২, কক্সবাজার জেলার রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানা এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর উপর বর্বরোচিত হামলা হয়। সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর এই বর্বরোচিত হামলার নিন্দা-প্রতিবাদ ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হামলার পর পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি-র মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন (MBRM)-এর একটি প্রতিনিধি টিমকে পাঠানো হয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ জনগন সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা-ধর্মের জনগনের সাথে আলোচনা-মতবিনিময় সাপেক্ষে একটি রিপোর্ট / প্রতিবেদন তৈরির জন্য। সেই সময় কাজটি ছিল অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। টিম কাজটি সেরে এসে এই রিপোর্টটি পার্টিতে জমা দেয়। যা প্রকাশ করা হলো। আগ্রহী পাঠকগণ এ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাবেন, তবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেরই। – সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি।]

প্রতিবেদন –

থমথমে পরিস্থিতি, অজানা শঙ্কা, ভীতিকর পরিবেশ এসবের ভেতর দিয়ে রামু উপজেলা সদর ও তারআশেপাশের ঘটনার স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জনগন MBRM প্রতিনিধিকে জানান সেই ভয়াল রাতের কাহিনী। ঘটনার শুরু ২৯ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬.৩০টা। রামু উপজেলার সদরে ফকিরা বাজার এলাকার ফারুক কম্পিউটার এন্ড টেলিকম দোকানে বসে অপ্রাসঙ্গিক আড্ডা দিচ্ছিলেন দোকান মালিক ওমরফারুক (শিবির কর্মী), রামু উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিম। স্থানীয় যুবক আব্দুল মুক্তাদির আলিফ (যার বাড়ি দোকান হতে ২০০ গজ দূরে, জামায়াত ঘেঁষা পরিবারের সন্তান, কথিত শিবির সমর্থক) মায়ের মোবাইল মেরামতের জন্যে উক্ত দোকানে যায়। এরই ফাঁকে সে উক্ত দোকানের কম্পিউটারে বসে কথিত উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক ওয়ালে ইনসাল্টআল্লাহ  শীর্ষক ছবি দেখতে পায়। অথচ উত্তম বড়ুয়া এলাকাতেই উপস্থিত ছিলেন না। আদৌ সেটি উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিনা তা কেউই জানেনা (উল্লেখ্য যে, মুক্তাদিরের মায়ের ভাষ্যমতে, মুক্তাদির তার মাকে জানিয়েছিল যে, সে ছবিটি উত্তমের নয়, ফারুকের ওয়ালে দেখেছিল। যদি বক্তব্যটি সত্য হয়, তবে উত্তম বড়ুয়ার অজুহাত দাঁড় করিয়ে কেন হামলা চালানো হয়?) ছবিতে ছিল কোরান শরিফের উপর এক বিদেশি নারীর পা যুগল। ছবিটি দেখা মাত্র মুক্তাদির জোরে চিৎকার দিয়ে উঠতেই মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়। মুক্তাদির ছবিটির শতশত ফটোকপি প্রিন্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই সদর এলাকায় বিলি করে দেয়। (মুক্তাদিরের মায়ের ভাষ্য মতে, ফারুকের দোকানে কোনো প্রিন্টার ছিল না। তাহলে প্রশ্ন আসে কয়েক মিনিটের মধ্যে শতশত প্রিন্ট ছবি কোত্থেকে এলো?) চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা ব্যক্তিরা ছিল – হাফেয আব্দুল হক/৬০ (রামু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর সাবেক ইমাম ও নেজামে ইসলামী কক্সবাজার জেলার সহসভাপতি-প্রচারিত আছে উনি একজন সমকামী হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং এই কারণে রামু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়),  হাফেয আহমেদ/২৮ (যার পরিবার ১৯৭৮ সালে বার্মা থেকে রামুতে এসে বসতি স্থাপন করেন, এলাকায় প্রচারিত আছে যে, হাফেয আব্দুল হকের সাথে তার সমকামিতার সম্পর্ক বিদ্যমান), জাহাঙ্গির আলম (জামায়াত-শিবির নেতা, RTV জেলা প্রতিনিধি জাফরের বড় ভাই), যুবদলের মিজান উদ্দিন মেম্বার, বি এন পি নেতা আবসার মেম্বার। রামু উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে এই সকল নেতারা রাত ৮ টার দিকে ৫০-৬০ জনের মত লোক নিয়ে প্রথম মিছিল বের করে রামু থানার সামনে এসে কথিত জানাজার পাবলিসিটি করতে থাকা একটি মাইক নিয়ে সমাবেশ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তম বড়ুয়ার বিচার দাবি করে। (উল্লেখ্য যে, আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিমের স্ত্রী মনোয়ারা ইসলাম নেভি বিগত ইউ পি নির্বাচনে বৌদ্ধ পাড়া থেকে নির্বাচিত সোনিয়া বড়ুয়ার কাছে হেরে গেলে,তখন থেকেই নুরুল ইসলাম সেলিম এর প্রতিশোধ নেবে বলে স্থানীয় ভাবে বলে বেড়াত)। মাইকে আহবানকারী ছিলেন- স্থানীয় মেম্বার কামাল। মিছিলটি রামু চৌমুহুনি আসতেই লোক সংখ্যা ১০০-২০০ জনে বেড়ে ছেরং ঘাটা উত্তম বড়ুয়ার বাড়ীর দিকে এগুতে থাকে। উত্তম বড়ুয়ার বাড়ীতে হানা দিয়ে মিছিলটি রাত ৯-৯.৩০টার দিকে আবারো রামু চৌমুহুনিতে যখন আসে তখন লোক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০-৫০০ জন। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ সামনের পাশ দিয়ে সাংবাদিক আবির বড়ুয়া সড়কে প্রবেশ করে মেরং লোয়া বড়ুয়া পাড়ার ভিতর দিয়ে এগিয়ে গিয়ে আবার রামু চৌমুহুনিতে গিয়ে রাত ১০ টার দিকে সমাবেশ করে। তখন লোকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০০-২০০০ জন। সমাবেশ চলতে থাকলে রাত ১১ টার দিকে লোক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০০-৫০০০ জন। উক্ত সমাবেশ পরিচালনা করেন থানা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। বক্তব্য রাখেন – থানা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি আনসারুল হক ভুট্টুঁ, নুরুল ইসলাম সেলিম ও রামু থানার OC নজিবুল ইসলাম। এদের নেতৃত্বে মিছিলটি উত্তমের বাড়ীতে গিয়ে ভাংচুর চালিয়ে আবারো রামু চৌমুহুনিতে এসে আবার সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন- রামু থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল, ইউ পি চেয়ারম্যান বি এন পি নেতা সিরাজুল ইসলাম ভুত্তু ও বি এন পির স্থানীয় সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল ও থানা OC নজিবুল ইসলাম। এ সময় সাংসদের সাথে ৩০-৪০ টি মোটর সাইকেল আসে। সাংসদের বক্তব্য চলাকালীনই ৩০-৪০ টি মোটর সাইকেল করে আসা ছাত্রদল নেতা আবুল কাসেম বাবুল, শিবির কর্মী আয়াতুল্লাহ ও বি এন পি কর্মী আয়াতুল্লাহের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে লাল চিং , সাদা চিং, শ্রীকুল বিহারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় এবং বড় ক্যাং এ ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। ওখান থেকে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মেরং লোয়া, সীমা বিহার ও বসতিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ভোর ৪ টা পর্যন্ত মোট ৭ টি মন্দিরে আগুন, ৫ টি মন্দিরে ভাংচুর, ৩০টি বৌদ্ধ বসত বাড়ীতে আগুন এবং ১০০টির বেশি বসতবাড়ির ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।। এতে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু দিয়ে গড়া প্রায় ৩০০-৩৫০ মূর্তি লুট হয়, পুড়ে যায় ৭ টি ভাষার তালপাতার ত্রিপিটক, গৌতম বুদ্ধের ধাতু ও চুল। এই সময়টিতে বৌদ্ধরা দিকবিদিক ছুটে পালাতে থাকে, আবার গুটি কয়েক পরিবারকে কয়েকটি মুসলিম পরিবার আশ্রয় দেয়। ভোর ৪টা পর্যন্ত ভাংচুর চালিয়ে হামলাকারীরা গাড়ি বহর করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, এই হামলায় আওয়ামী লীগ, বি এন পি, জামাত, নেজামে ইসলামী সহ সকল প্রতিক্রিয়াশীল দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ও জড়িত ছিল। হামলাকারীদের একটি অংশ ছিল স্থানীয় মণ্ডল পাড়ার লোকজন। ওই মণ্ডল পাড়াতেই থাকেন রামু থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল।উল্লেখ্য যে মন্দিরগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব বিভিন্ন। কোনটি ১ কিলো, কোনটি ৫ কিলো, কোনটি ২ কিলোমিটার। হামলাকারীরা পরিকল্পনা মাফিক বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে মন্দির গুলোতে হামলা চালায়। এই সময় রামু থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল, ইউ পি চেয়ারম্যান বি এন পি নেতা সিরাজুল ইসলাম ভুতু ও  বি এন পি’র স্থানীয় সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল ও OC নজিবুল ইসলাম কেউই ঘটনাস্থলে যাননি। উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজলের ভাই বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী- কমল ওই সময় রামুতে ছিলেন না। বিক্ষোভের সময় সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল মোটর সাইকেল বহর নিয়ে রামু পৌছার পর পরই বেশ কিছু গাড়ি বহর আসতে থাকে। উক্ত মোটর সাইকেল বহর অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে নেতৃত্ব দেয়। উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল ঘটনাস্থলে আসার আগে রাত ১০ টা পর্যন্ত গর্জনিয়া ছিল। ৫টি  গ্রুপে ভাগ হয়ে হামলাকারীরা পরিকল্পিত এ হামলা করে। হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও হামলা করে অল্প কয়েকজন। প্রতিটি বিহারে ২০ থেকে ৩০ জন ঢুকে গান পাউডার ও পেট্রোল দিয়ে বিহারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়। পরবর্তিতে এ ৫টি গ্রুপ আরো ৫টি বিহার এবং বৌদ্ধদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। রাত ৪টার দিকে বৃষ্টি হলে বিক্ষোভকারীরা চলে যায়। সাথে সাথে হামলাকারীরা ভাড়া করা গাড়িতে গা ঢাকা দেয়। এদিকে অন্য সূত্রে জানা যায়, হামলায় ব্যবহৃত কক্সলাইনের মিনিবাস ৩টি দুজন চেয়ারম্যান ভাড়া করেছেন। তাদের মধ্যে ১ জন গর্জনিয়ার কচ্ছপিয়ার চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও অপরজন রামু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা ফয়জুল্লাহ হাসান। এসময় ঈদগড়, গর্জনিয়া, নাইক্ষংছড়ি, চকরিয়া, জোয়ারিয়া নালা, ঈদগাঁও থেকে হামলাকারীরা আসে। কক্সবাজার শহর থেকে ৩০ টি মোটর সাইকেলের বহর আসে। রাত ২.৪০ টার দিকে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আবু হেনা মুস্তফা কামালের সাথে ১৫-২০ জনের দল ভোলা বাবু পেট্রোল পাম্পের পাশে অবস্থান করছিল। ঝিলংজা ইউ পি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর জানায়- লিঙ্ক রোড, ছান্দের পাড়া, হাজি পাড়া, বাংলাবাজার এলাকায় ওই সময়টিতে জামায়াতের কর্মীরা জড়ো ছিল। হামলাকারীরা ট্রাক, কক্স লাইন ও ১৯৭৮ সালে বার্মা থেকে আসা বৈদ্যনাথ পাড়ার রোহিঙ্গা জাকারিয়ার মালিকাধিন জে কে এন্টারপ্রাইজের গাড়ি ব্যবহার করে। উক্ত ট্রাক সীতাকুণ্ড থেকে ব্যবহৃত হয়। বৌদ্ধরা জানান , তারা ঘটনার সময় OC কে ফোন দিয়ে জানালে OC তাদের নির্ভয়ে থাকতে বলে। হামলা ও অগ্নিসংযোগে গান পাউডার, তরল দাহ্য পদার্থ, বিশেষ ধরনের সিমেন্টের তৈরি ব্লক, ককটেলের খোসা ও ৭ টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড ব্যবহার হয়। ঘটনার আগের দিন লারপারায় জামায়াত-এর  শ্রমিক নেতা মনির আহমেদের  হাত কাটা প্রকাশের বাসায় গোপন বৈঠক হয় বলে জানা যায়। জামাত নেতা শহিদুল আলম বাহাদুর ওরফে ভিপি বাহাদুর, মনির হামলাকারীদের ১০টি ট্রাক ভাড়া করে দেয়।

ঘটনার দিন কক্সবাজার শহরে পূর্বনির্ধারিত ১৮ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি , বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা শামসুজ্জামান দুদু,  বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খন্দকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর মৌলানা সৈয়দ মুজিবুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. জহিরুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহা-সচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু অবস্থান করছিলেন।

প্রশাসনের ভুমিকা

স্থানীয় জনৈক প্রফেসর, বৌদ্ধ ভিক্কু ও বৌদ্ধরা জানান , ঘটনার সময়  তারা SP ও OC কে ফোন  দিয়ে জানালে ২ জনেই তাদের নির্ভয়ে থাকতে বলে। SP , OC প্রথম মিছিল থেকেই শেষ পর্যন্ত  জানতেন। পুরো সময়টিতে তারা পুলিশ বাহিনী নিয়ে নিশ্চুপ ছিল। হামলাকারীরা OC-র সামনেই  ফায়ার ব্রিগেড এর গাড়ি আটকে দেয় কিন্তু OC কিছুই বলেননি। অথচ ঘটনার সময় SP সেলিম জাহাঙ্গির রামুতেই অবস্থান করছিল। MBRM এর একজন স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষী জানান, গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার পূর্বাভাস ২৬ শে সেপ্টেম্বরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ হামলা প্রতিরোধের কোন পদক্ষেপ নেননি। আরও জানা যায়, OC ক্লোজড হওয়ার পর পুলিশ লাইন থেকে পালানোর সময় নগদ ৪০ লাখ টাকাসহ আটক হয়ে DIG দপ্তরে ছিল বলে। ঘটনা চলাকালীন কক্সবাজার শহরে (রামু থেকে দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার) সাবেক DC জয়নুল বারীর ফেয়ার ওয়েল চলছিল। সেখানে রামুর UNO দেবি চন্দ সহ কক্সবাজার পুলিস ও প্রশাসনের উচ্চ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনা জানতেন, অথচ মঞ্চে রামুর UNO গান গাইছিলেন। পরবর্তীতে ঘটনায় রহস্যজনকভাবে নীরব থাকার অভিযোগে সাবেক DC জয়নুল বারীকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে OSD করা হয়। জয়নুল বারীর ফেয়ার ওয়েল অনুষ্ঠানের টাকা রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন RSO সম্পাদক সালামত উল্লাহর হাত থেকে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দায়ভার নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সাথে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, বিরোধ দেখা দিয়েছে।

হামলার ঘটনা সুপরিকল্পিত তার সহজ প্রমাণ এই যে, ঘটনার সাথে সকল প্রতিক্রিয়াশীল দল সরাসরি জড়িত, এটা সবাই দেখেছেন। রাত ১১ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত হামলা চলছিল আর প্রশাসন চুপ করে দাঁড়িয়ে বসে সময় কাটাচ্ছিল। রামুর ২ কি মি মধ্যে আর্মি ক্যাম্প ছিল,  তারা সন্ধ্যে ৬ টা থেকেই হামলার অগ্রিম সংবাদ DGFI থেকে পেয়ে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু DC তাদের ঘটনাস্থলে যেতে বলেননি।   বি জি বি ও অনুরুপ ভাবেই অপেক্ষায় ছিল কিন্তু এখানেও DC , SP চুপ ছিল। আরও জানা যায়, রামু  থানার OC ছাত্র জীবনে বি এন পি ও SP সেলিম জাহাঙ্গীর শিবির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। রামু থানার DSB তাজুল ওই সময় বৌদ্ধদের গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। OC নিজেই হামলা চলাকালীন বৌদ্ধদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে,এই পুলিশি পোশাক না থাকলে তিনি নিজেও পোড়ানোতে অংশ নিতেন। হামলার পরে ভোর ৪ টার দিকে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর প্রশাসন আসে। ফায়ার ব্রিগেড এসে আগুন নেভায়। ঘটনার পর রামু উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিমকে পুলিশ গ্রেফতার করলে রামু থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল তাকে থানা হতে তৎক্ষণাৎ ছাড়িয়ে আনেন। এর ৫ দিন পরেই উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজলের বাসা হতে লুণ্ঠিত বুদ্ধ মূর্তি পাওয়া যায়। এ সময় নিজেকে বাঁচাতে তিনি বলতে থাকেন হামলাকারীদের হাত থেকে তিনি মূর্তিগুলো রেখে দিয়েছিলেন। ভোর ৪ টার দিকে হামলাকারীরা যখন যাচ্ছিল তখন পথিমধ্যে প্রশাসন বা স্থানীয় বিজিবি তাদের গাড়ি বহর আটকায়নি,কিন্তু বান্দরবনের নাইক্ষংছড়ি গেলে ওখানকার বিজিবি তাদের আটক করে।। এ দিকে কথিত নায়ক উত্তম বড়ুয়ার কোন খোঁজ নেই। প্রশাসন ঘটনার পর তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার পর থেকেই তার খোঁজ মিলছে না। সে কোথায় কি অবস্থায় আছে কেউ জানেনা? স্থানীয়দের ধারনা উত্তম বড়ুয়াকে রাষ্ট্র গুম করে ফেলেছে। হামলাকারীদের বড় অংশ ছিল উঠতি তরুন, মাদ্রাসার ছাত্র, রোহিঙ্গা, ও স্থানীয় মণ্ডল পাড়ার লোকজন। বৌদ্ধরা জানান, স্থানীয় হামলাকারীরা তাদের চোখের সামনেই দিনে দুপুরে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু ভয়ে কেউ তাদের নাম বলে না। কারণ স্থানীয় ও বৌদ্ধদের ধারনা, হামলাকারীদের সনাক্ত করে দিলে পাছে তারা আবার এর প্রতিশোধ নেবে। তখন বৌদ্ধরা কোথায় যাবে? এসব ভেবে বৌদ্ধরা চুপ থাকেন।

উখিয়া- টেকনাফ –

৩০শে সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যখন রামু ছিলেন তখন রামু ঘটনার রেশ ধরে উখিয়া মরিছছ্যা বেনুবন বৌদ্ধ বিহারে (গরু বাজার সংলগ্ন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সাইন বোর্ড ভাংচুর করা হয়।  মরিছছ্যা বাজারে সকাল ১০.৩০ টা পর্যন্ত ৩ দফা মিছিল হয়। ঘুনিয়া পালং বিজিবি/ পুলিশ যৌথ চেক পোস্টের পাশের স্থানীয় মাদ্রাসা ধেছুয়াপালং মাদ্রাসা হতে শতাধিক ছাত্রের মিছিল বের হয়। মিছিলে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির লোকজন সহ আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের লোকজন (বিএনপি নেতা গফুর উদ্দিন মেম্বর, আওয়ামী নেতা  সুলতান মেম্বর) ছিল। বিকেল ৪-৫ টার দিকে উখিয়ার কোট বাজারে স্থানীয় প্রভাতী সংঘের উদ্যোগে রিক্সা যোগে মাইকিং করা হয় এবং প্রতিবাদ মিছিল করে। প্রভাতী সংঘের সাথে ঐ সব রাজনৈতিক দলের যুবকরা জড়িত। নেতৃত্বে ছিল যুব দল নেতা গফুর উদ্দিন, জামায়াত নেতা কামাল উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম। এরপর সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী সাধারন সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী, হলদিয়া ইউ পি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী মিন্টু ও আওয়ামী নেতা নুরুল হুদার নেতৃত্বে বের হয় শান্তি মিছিল। এ সময় ৮-১০ জনের পুলিশ দল কোট বাজারে অবস্থান নেয়। এদিকে বিকেল ৫ টার দিকে উখিয়া-টেকনাফের বিএনপি দলীয় এম পি শাহজাহান চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী এর এলাকা হতে অজ্ঞাত লোকজনের একটি মিছিল হামলা চালায় জাদিমুরা বৌদ্ধ বিহারে। ওখানে ভাংচুর চালানো হয়। রাত ৮ টার দিকে মিছিল নিয়ে কোট বাজারস্থ পশ্চিম রত্নাংকুর সুদর্শন তীর্থ বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালানো হয়। এ সময়া আওয়ামী নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী ও নুরুল হুদা সহ অন্যান্যরা মিছিলের উপর গুলি বর্ষণ করলে, পুলিশও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে ৭-৮ জন মিছিলকারী আহত হয়। পরে রাত ৯ টার দিকে উপকূলীয় এলাকা সোনার পাড়া, জালিয়া পালং, ইনানি হতে ৫ সহস্রাধিক লোকের একটি মিছিল আবারো হামলার জন্যে এগুতে চাইলে রুমখা বাজার এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা বাধা দেয়। মিছিলে বিশেষ ইউনিফরম পরা ৪০-৫০ জন যুবক দেখা যায়, বেশির ভাগ ছিল অপরিচিত। স্থানীয়দের ধারনা এরা রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন জঝঙ এর কর্মী। অন্যদিকে রাত ৯ টার দিকে হামলা চালানো হয় পশ্চিম মরিছছা দীপঙ্কর বৌদ্ধ বিহারে। অগ্নিসংযোগে পুরো মন্দির ধ্বংস ও লুটপাট হয়। হামলায় বিগত হলদিয়া ইউ পি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী বাবুল সহ বি এন পি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন নেতা অংশগ্রহন করে। সন্ধ্যে সাড়ে ৭ টার দিকে টেকনাফের হোয়ইকং এ চাকমাদের এক বৌদ্ধ বিহারে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশ স্থানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান, জামায়াতের নেতা/মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনুয়ারিকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে স্থানীয় উদারপন্থী কয়েকজন মুসলিম ও একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ গ্রামবাসীর প্রতিরোধে হামলা ভণ্ডুল হয়। মিছিলে বি এন পি, জামায়াত ও রোহিঙ্গারা অংশ গ্রহন করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে ২৫ জন আহত হয় এবং ৪ টি হিন্দু বসত বাড়ি পুড়ে যায়। একই দিন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শিকলবাহা এলাকায়  জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের জামায়াত সমর্থিত কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক অতর্কিত এসে  কোলাগাঁও ইউনিয়নে বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের চারটি মন্দিরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এই দিন  দুপুরে লাখেরা অভয় বৌদ্ধ বিহার, কোলাগাঁও রত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার, কোলাগাঁও নবারুণ সংঘ দুর্গা মন্দির ও জেলে পাড়া মাতৃ মন্দিরে হামলা চালানো হয়।  একইসঙ্গে চারটি মন্দিরের আসবাবপত্রে  আগুনে পুড়িয়ে দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামু ছেড়ে চলে যাওয়ার পরপরই উখিয়ার হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় উখিয়া থানার OC,জেলা SP-র কাছে পর্যাপ্ত পুলিশ চেয়েও পাননি।

বর্তমানে স্থানীয় বৌদ্ধদের মাঝে প্রবল আতঙ্ক কাজ করছে, তারা কোন দল বা মুসলিমকেই আর বিশ্বাস করতে পারছে না। এই ভয় এখন সারা দেশের বৌদ্ধদের মাঝে ছড়িয়ে গেছে। ভয়ে প্রশাসনকে হামলাকারীদের কোন তথ্য দিতে চাইছে না, পাছে তারা আবার হামলা করে। বিভিন্ন সহযোগীদের কাছ থেকে আসা অর্থ বা অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সমান ভাবে বণ্টন হচ্ছে না। এতে সবার মাঝে একধরনের হতাশা কাজ করছে।

এদিকে স্থানীয় সুবিধাবাদী বৌদ্ধ নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের ও মন্দিরের জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অভিযোগ করেন। এছাড়া কিছু সংখ্যক আওয়ামী পন্থী জাতীয় বৌদ্ধ নেতারা এই সুযোগে বিদেশি দাতাদের কাছ থেকে ব্যবসা করার ফন্দি করছেন বলে জানা যায়। এই নেতৃবৃন্দ  প্রতিবারের মত এবারো সরকার ও বিরোধী দলের হয়ে দালালি করছে। প্রধানমন্ত্রী রামু পরিদর্শনের আগের রাতে গনভবনে এইসব নেতাকে ডেকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করেন। ঘটনা পরবর্তী বৌদ্ধ নেতারা কার্যত ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। আওয়ামী ভাগে আছেন ধরমরাজিক বৌদ্ধ বিহারের প্রধান,বৌদ্ধদের ভাষায়- মন্দির দুর্নীতিতে বহুবার অভিযুক্ত শুদ্ধানন্দ মহাথের, মেরুল বাড্ডা বিহারের প্রধান সুনন্দ ভিক্ষু ও বিএনপি ভাগে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষার বিভাগীয় শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া। হামলায় অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো এই সব দালালদের মাধ্যমে বৌদ্ধদের রাজনৈতিক ভাবে বিভক্ত করে নিজেদের দোষ ধামা চাপা দিতে চাইছে।

বৌদ্ধরা MBRM কে আরও জানান, – তারা আর এই সব দল কে বিশ্বাস করে না। কারণ এই সব দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগেই হামলা হয়েছে, আর এখন এসে দলগুলো ও তাদের দালাল প্রতিনিধিরা মায়া কান্না করছে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ও জনগন এদের ভয়ে কিছুই বলতে পারছেনা, কারণ যারাই হামলা করেছে তারাই এসে সমবেদনা জানাচ্ছে। প্রশাসন এই সব চাক্ষুষ অভিযুক্তদের ধরছেনা। বৌদ্ধরা হতাশার সুরে জানান, এই সব দলগুলোর সাথে তাল দিয়েই এই দেশে বাস করতে হবে। আমরা যাব কোথায়?

এ দিকে হামলা পরবর্তীতে সরকারি খরচে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ায় সফরসঙ্গী হওয়ার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সংঘরাজ মহাসভার সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজারের রামু সীমা বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের । রামুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া ৩০০ বছরের পুরোনো সীমা বিহারের অধ্যক্ষ ৮৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ বৌদ্ধ ভিক্ষু সত্যপ্রিয়।

NGO ভুমিকা –

রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন RSO, NGO- মুসলিম এইড, ACF(ফ্রান্স), MSF(হল্যান্ড), ইসলামিক রিলিফ নিষিদ্ধ ঘোষিত করার পর থেকে গোপনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে এই ঘটনায় মুসলিম এইড ও রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন RSO অর্থ যোগান দিয়েছে বলেও জানা গেছে। রামুর ৫ কিমি. এর মধ্যে RSO ক্যাম্প-এর অস্তিত্ত্বের কথা স্থানীয় ও গোয়েন্দারা জানে। রামুতে বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রেফতার হয়। এসব রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সাথে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্য জোটের স্থানীয় হোটেলে বৈঠকের কথা জানা যায়। এতে রামু ঘটনার অন্যতম নায়ক হাফেয আব্দুল হক পুলিসের হাতে গ্রেফতার হন আর বাকিরা পালিয়ে যান। হামলাকারীদের একটা বড় অংশ ছিল রোহিঙ্গারা,তারা সবসমই এদেশের প্রতিক্রিয়াশীল আওয়ামী লীগ, বি এন পি, জামাতের স্বার্থে ব্যবহার হয়ে আসছে। এদিকে রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্যে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ চাপ দিয়ে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে কয়েক মাস আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও EU নেতৃবৃন্দরা UNHCR কক্সবাজার কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত রোহিঙ্গা এলাকা পরিদর্শন করার সময় স্থানীয় রোহিঙ্গা যুবকরা স্বাধীন আরাকান স্টেট দাবি সম্বলিত  প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করছিল। স্বাধীন আরাকান স্টেট বলতে বার্মার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম মিলিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এদিকে এই মার্কিন এজেন্ডা পুরনের জন্যে UNHCR, OIC, সৌদি নিষিদ্ধ ওয়াইমি NGO রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজ করে যাচ্ছে বলে স্থানীয় অভিযোগ আছে। রোহিঙ্গাদের পুরো সমর্থনে পুষ্ট স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত।  এসব রোহিঙ্গা মানব পাচার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানে যুক্ত। এসব রোহিঙ্গাদের মাঝে জঙ্গিরা ধীরে ধীরে আরো শক্তিশালি হয়ে উঠছে। অথচ ২-৩ মাস পর পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা এলাকা গুলো পরিদর্শন করে যান।

ঘটনা পরবর্তী ২ দিনের মাথায় আন্তর্জাতিক দাতা সম্প্রদায় ঘটনাস্থলে আসার পূর্ব মুহূর্তে সরকার মন্দিরে প্রবেশ রাস্তার পাশে পুড়ে যাওয়া সারিবদ্ধ বাড়ি গুলো বি  জি বি কে দিয়ে রাতারাতি ঢেউ টিনের ঘেরা দিয়ে রাখে,যাতে দাতা গোষ্ঠী এই ভয়াবহতা অতটা না বুঝে, পাছে আবার এদেশে বৌদ্ধ দাতা দেশ গুলো বিনিয়োগ কমিয়ে দেয় এই আশঙ্কায়।

সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, ঘটনার কথিত চরিত্র উত্তম  বড়ুয়া কোথায়? এটা কেউ জানেনা, এমন কি প্রশাসনের লোকজন স্বীকার করছেনা। প্রশাসন শুরুর দিকে বলেছিল, উত্তম তাদের হেফাজতে আছে, কিন্তু পরবর্তীতে ডিগবাজী দিয়ে বলে যে, তারা উত্তমের কোন খোঁজ জানেনা। কেউ কেউ বলছে বান্দরবান আছে, কিন্তু কোন প্রামাণ্য সাক্ষ্য নাই। ঘটনার সাথে আদৌ উত্তম জড়িত কিনা কিংবা তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা বা সে কোন এজেন্ট কিনা? জনগনের এসব প্রশ্ন উত্তম, মুক্তাদির ও ফারুক কে একত্র করলে ঘটনা বেরিয়ে আসে, কিন্তু প্রশাসন সেটা না করে প্রতিবারের মতো উল্টো নানা বানোয়াট ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কাহিনী দাঁড় করিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কারণ প্রশাসন এবং সকল প্রতিক্রিয়াশীল দল ঘটনার সাথে জড়িত এটা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায় বলছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঘটনাটি নিয়ে এতোই ভীত যে কারো সাথেই কোন আলোচনা করে না, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের কারো সাথে। কার্যত এলাকায় পূর্ণমাত্রায় সাম্প্রদায়িক অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনা পরবর্তী সময়ে, আওয়ামীলীগ সরকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আই ওয়াশ করার জন্যে ওই সম্প্রদায় থেকে একজন লুটেরা শ্রেণীর লোক ডঃ প্রণব কুমার বড়ুয়াকে রাতারাতি আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য করেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত ব্যক্তি ঢাকা বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মন্দিরের নামে আসা কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক সাহায্য আত্মসাৎ এর দায়ে অভিযুক্ত। এদিকে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণাধীন ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির পুনঃনির্মাণের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়, তারা জানান, মন্দির নির্মাণে বরাদ্দ অর্থের পরিমান সেনাবাহিনী কাউকে জানাচ্ছে না, এবং তাদের নক্সা অনুসরন না করেই নিজেদের ইচ্ছে মতো মন্দিরের কাঠামো দাঁড় করাচ্ছে। এ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ভেতর তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কিন্তু তারা বিগত ঘটনায় ভীত। আর এর সুযোগ নিচ্ছে সেনাবাহিনী ও লুটেরা সরকার।

আমাদের প্রশ্ন  

ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। নইলে গোয়েন্দারা অগ্রিম সতর্ক বার্তা দেয়ার পরেও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি কেন ? রাত ১১ থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত হামলায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চুপ ছিলেন কেন ? কেন আর্মি বি জি বি সন্ধ্যে ৬ টা থেকে প্রস্তুত ছিল ? কেন তাদের আসতে দেয়া হয়নি ? কেন সকল দলের লোক জড়িত ছিল ? কিভাবে ২০-৩০,০০০ লোক মুহূর্তের মধ্যে এল ? গান পাউডার, তরল দাহ্য পদার্থ, বিশেষ ধরনের সিমেন্টের তৈরি ব্লক, ককটেলের খোসা ও ৭ টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড কিভাবে এল ? ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল কেন ? ঘটনার দিন ১৮ দলীয় জোটের মিটিং ছিল কেন ? কেন উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসা থেকে লুণ্ঠিত মূল্যবান মূর্তি পাওয়া যায় ? কেন ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রামু উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিমকে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজল থানা হতে ছাড়িয়ে আনে ? কথিত উত্তম বড়ুয়া কোথায় ? প্রশাসন তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পরে অস্বীকার করছে কেন ? ফারুক, মুক্তাদির আর উত্তমকে একত্র করলে ঘটনার পুরাটা বেরিয়ে আসত, কিন্তু কেন ৩ জনকে একত্রিত করা হচ্ছে না ? কেন প্রধানমন্ত্রী ঘটনার পরপরই একজন বৌদ্ধকে তাড়াহুড়ো করে আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য করল? হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর বৌদ্ধ দেশ  ভিয়েতনাম, লাউস ও কম্বোডিয়া সফরের পিছনের উদ্দেশ্য কি ছিল ? হামলার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ EU নেতারা কেন বারবার টেকনাফ, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল ? হামলার আগ পর্যন্ত রামু সদর থেকে ৫ কিমি এর মধ্যে RSO ক্যাম্প কিভাবে থাকে ? লুণ্ঠিত মূর্তি আওয়ামী নেতা,উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সারওয়ার কাজলের বাসায় কি ভাবে পাওয়া যায় ? 

( মানব রহমান )
     মুখপাত্র
পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি ( মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM)

Tags: , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: